ADS

বাবরি মসজিদের ফিরছে মুয়াজ্জিনের আজান, উগ্র হিন্দুত্ববাদকে কঠিন বার্তা

 


ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের তিন দশকের বেশি সময় পর আবারও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজে নতুন এক প্রতীকী প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নির্মাণ শুরু হয়েছে নতুন বাবরি মসজিদ, যেখানে ভবিষ্যতে আবারও মিনারে উঠবে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি। মুসলিম সম্প্রদায়ের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়; বরং উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির বিরুদ্ধে নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক বড় ক্ষতের স্মারক। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায় কয়েক শত বছরের স্থাপত্য। সেই ঘটনার শোক আজও কোটি মুসলমানের হৃদয়ে জীবন্ত। ঠিক সেই দিনটিতে—৩৩ বছর পর—মুর্শিদাবাদে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে নতুন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। হাজারো মানুষ মাথায় ইট নিয়ে এসে অংশ নেয় নির্মাণ যাত্রার সূচনায়, যা মুহূর্তেই প্রতীকে পরিণত হয় মুসলিম ঐক্য ও আত্মমর্যাদার।

নতুন মসজিদটি নির্মাণ হবে প্রায় ২৫ বিঘা জমির উপর, আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার ব্যয়ে সম্পূর্ণ মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব অর্থায়নে। শুধু মসজিদ নয়, একই প্রাঙ্গণে গড়ে উঠবে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্কসহ আধুনিক অবকাঠামো। এসব হলো একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে ঘিরে সমগ্র সমাজের জন্য কল্যাণমুখী উদ্যোগের প্রতীক।


বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবির, যিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, তিনি জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রকল্প নয়। এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা। বাবরি শুধু একটি স্থাপনার নাম নয়; এটি মুসলমানের ইতিহাস, অভিমান ও অস্তিত্বের প্রতীক।

মুসলিম নেতারা মনে করেন, অযোধ্যায় বাবরি ধ্বংস ধর্মীয় নিপীড়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়ালেও মুর্শিদাবাদের এই নতুন নির্মাণ প্রতিক্রিয়া নয়, এটি পুনর্জন্ম। তাদের মতে, উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা মসজিদ ভেঙে ইতিহাস হারাতে চাইলেও—মুসলিম সমাজ দেখিয়ে দিচ্ছে ইতিহাস ধ্বংস করা যায় না। বরং তা নতুন রূপে, নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে আসে।


স্থানীয় মানুষের আশা, খুব শিগগিরই এই নতুন মিনার থেকে ভেসে উঠবে আজানের ধ্বনি, যা শুধু ধর্মীয় আহ্বান নয়, বরং সহনশীলতা, স্থিতিশীলতা ও আত্মপরিচয়ের ঘোষণা। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের কাছে এটি এক দৃঢ় বার্তা: ধ্বংস করা যায়, কিন্তু দমিয়ে রাখা যায় না বিশ্বাস, পরিচয় ও সম্মানকে।

মুর্শিদাবাদের নতুন বাবরি মসজিদ এখন তাই শুধু স্থাপনা নয়—উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে শান্ত, দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ এক প্রতীকী জবাব।


Post a Comment

0 Comments